কুষ্টিয়া থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা ও আমার অভিজ্ঞতা

কুষ্টিয়াকে বলা হয় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী, সাংস্কৃতিক রাজধানী থেকে দেশের রাজধানীতে যাবার জন্য প্রথমে গেলাম পোড়াদাহ রেল স্টেশনে।
সেখান থেকে ঢাকা গামি ট্রেনের টিকেট কিনলাম, ইচ্ছে ছিল এসি কোচে সিট নেবার কিন্তু এসি কোচে কোন সিট খালি না থাকায় নন এসি কোচেই সিট নিতে হল।

একটা কথা ট্রেনের নামটিই তো বলতে ভুলে গেছি ট্রেনের নাম হল চিত্রা, পোড়াদাহ থেকে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে যাবার উদ্দেশ্যে এই ট্রেনে ওঠা।
সময়মত প্লাটফর্ম এ দাড়িয়ে আছি ট্রেনের অপেক্ষায়, কথন আসবে ট্রেন, একটা কথা বলতেই হয় বাস ভ্রমণ থেকে ট্রেন ভ্রমণ করাটা অনেক বেশি নিরাপদ এবং আরামদায়ক।
ট্রেন আসার পরে আমার আসনে গিয়ে বসলাম, কিছুক্ষন পর দেখি ট্রেনের ভেতর ঝালমুড়ি ওয়ালা ঝালমড়ি ঝালমুড়ি বলে চিল্লাচ্ছে। ঝালমুড়ি দেখেই তো আমার জিভে পানি এস গেল ততখনাত আমি ঝালমুড়ি ওয়ালাকে ডেকে ২০ টাকা স্পেসাল ঝালমুড়ি মাখিয়ে দিতে বললাম। বিক্রেতা বললেন, মামা যে মুড়ি দিতেছি সারা জীবন আপনার মুখে লেগে থাকবে। ট্রেন ছুটে চলেছে ট্রেনের গন্তব্যের দিকে কিছুদূর আসার পর ট্রেন উঠল পাবনার পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত হাডিঞ্জ ব্রিজের ওপর। এই ব্রিজ পাবনা জেলার ইশ্বরদী উপজেলার পাকসি থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলাকে যুক্তকারী একটি রেল ব্রিজ। এই ব্রিজ বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় রেল সেতু। ততকালিন অবিভক্ত ভারতের বৃটিশ সরকার ১৯০৯-১৯১৫ সালে এই সেতু নির্মান করে। সেতুর দৈর্ঘ্য ১,৭৯৮.৩২ মিটার, এই সেতুর উপর দুটো ব্রড গেজ রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। সেতুটির নক্সা করেছিলেন আলেকজান্ডার মেয়াডস রেন্ডেল, ৪ মার্চ ১৯১৫ সালে এই সেতুটি চালু হয়, সেতুটির উপর দিয়ে যখন ট্রেন যাচ্ছিল তখন কেমন জানি একটু ভয় করছিল আবার বেশ আনন্দও হচ্ছিল। কারণ এর আগে আমি কখনও এই রেল সেতুটি দেখিনি। সেতু পার করে আমরা ঢুকে পারলাম পাবনা জেলার ভেতর, পাবনা জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র মানসিক হাসপাতাল। এছাড়া পাবনার রুপপুরে গড়ে উঠছে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রর মত হাই টেক স্থাপনা।
পাবনা জেলা আরও একটি বিশেষ কারণে বেশ পরিচীত সেটা হল পদ্মা নদী, পদ্মা নদী কুষ্টিয়া,পাবনা,এবং রাজশাহী বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ট্রেনের ভেতর একজন বৃদ্ধ দাদুর সাথে পরিচয় হয়, তিনি বণ বিভাগে চাকরি করতেন সেই দাদুর কাছ থেকে নানা রকম গল্প শুনতে লাগলাম। বিশেষ করে ভুতের গল্প, ভ‚ত নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ নেই, আমি দাদুকে বললাম’ দাদু তুমি কি আমাকে ভ‚ত দেখাতে পারবে দাদু বলেলন’ না রে দাদা ভাই ওসব তোমার দেখতে হবে না তুমি তো এখনও অনেক ছোট আরও বড় হয় তখন তোমাকে ভ‚ত দেখার পদ্ধতি শিখিয়ে দেব। আমি বললাম দাদু আমার বয়স ২৬ বছল আমি কি এখনও ছোট আছি? দাদু তখন হাসতে হাসতে বলেলন’ আরে দাদা ভাই ওসব ভ‚ত বলে কিছু নেই প্রকৃতীতে যা কিছু ঘটে সে সব ই প্রাকৃতীক ব্যাপার যেগুল বৈজ্ঞানিক ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।

কুষ্টিয়া থেকে পাবনা, পাবনা থেকে ট্রেন ছুটে চলল ঢাকার দিকে তখনও আমি ঝালমুড়ী খেয়ে চলেছি আসলেই ঝালমুড়ি টা অসাধারণ টেস্ট হয়েছিল আজও আমার সেই ঝালমুড়ির কথা মনে হলে জিভে পারিন চলে আসে।

ট্রেনে ঝালমুড়ি সহ বাদাম,ছোলা ভাজা,পেয়ারা মাখানো,আমড়া মাখানো,শশা মাখানো সহ নানা প্রকার মূখরচক খাবার পাওয়া যায়, আরও পাওয়া যায় চা,কফি, বিরিয়ানি সহ নানা রকমের খাবার। ট্রেনে চড়তে চড়তে একটা ছোট বেলায় স্কুলের বইতে পড়া একটি কবিতার কথা খুব মনে পরছিল সেটা হলঃ ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে ওই। ট্রেন চলেছে ট্রেন চলেছে ট্রেনের বাড়ী কই। আরও মনে পরছিল এক সময়ের বিখ্যাত কন্ঠ শিল্পি সালমার গাওয়া একটি সেটা সেটা হল’স্টেশনের রেল গাড়ীটা মাইপা চলে ঘড়ির কাটা প্লাটফর্মে বইসা ভাবি কথন বাজে ১২ টা কখন বাজে ১২ টা”। কিছুক্ষন পর ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে কানে হেটফোন লাগিয়ে গান শোনা সুরু করলাম। আমার খুব পছন্দের কিছু গান শুনতে শুনতে পৈাছে গেলাম আমার গন্তব্যস্থলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *