সুন্দর্যবর্ধক মেকআপের কালো অধ্যায়

সেলিব্রেটি থেকে সুরু করে অজ পাড়া গায়ের কিশোরী মেয়ে মেকআপ ব্যাবহার করতে ভালবাসেন, যে মেক আপ আমাদের সুন্দর্যকে আরও বেশি ফুটিয়ে তোলে সেই মেকআপের রয়েছে কিছু কাল অধ্যায়। মেক আপরে আবিস্কার নিয়ে রয়েছে ধোয়াশা কেউ দাবি করেন, প্রাচিন গ্রিকের মহিলাগণ মেক আপ আবিস্কার করেন। আবার কেউ কেউ বলে থাকেন, প্রাচিন মিশরীয় নারীরাই মেক আপের প্রকৃত আবিস্কারক। তবে এসকল তথ্য থেকে একটি কথা বোঝা যায়, মেক আপ কোন এক জনের আবিস্কার নয় এটি অনেক নারীর সম্মিলিত আবিস্কার। প্রাচীন গ্রিক এবং মিশরীয় নারীগণ তাদের মুখ সাদা রাখার জন্য মেক আপ ব্যবহার করতেন বলে যানা যায়। তবে সেই মেক আপ আজকের মত আধুনিক মেক আপ ছিল না, সে সময়ের মেক আপ ছিল সম্পুর্ণ প্রাকৃতিক। বর্তমানে মেক আপ সুধু নারীই নয় এটি এখণ পুরুষ ও ব্যাবহার করে থাকেন বিশেষত অভিনেতা, সেলিব্রেটি, ইত্যাদি.

আধুনিক মেক আপ তৈরীর প্রধান উপাদান হলঃ মাইকা। ১৯ শতকে ততকালিন অবিভক্ত ভারতে বৃটিশ উপনিবেশকারিরা প্রথম মাইকার খনি আবিস্কার করেন। ভারতের ঝারখান্ড ও বিহারে মাইকার খনি রয়েছে, পৃথীবিতে ভারত সব চেয়ে বেশি মাইকা উৎপাদন এবং রপ্তানি করে থাকে। আর ভারতে উৎপাদিন মাইকার ৭০ থেকে ৮০% মাইকা আসে অবৈধ খনি থেকে। ভারতীয় একটি এ্যাডভোকেসি গ্রুপ (কৈলাশ সেইফ দা চিলড্রেন) এর তথ্য অনুযায়ি ভারতে মাইকা মাইনিং করতে গিয়ে প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০-১৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়। খতিগ্রস্ত পরিবারগুলকে কোন প্রকার খতিপুরণ দেয়া হয় না বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি, সেখানে খনি ধসে যেমন মৃত্যু হয় বহু শিশুর, ঠিক তেমনই প্রতিনিয়তই আহত হয়ে চলেছে অনেক শিশু কোন কোন শিশু হয়ে যাচ্ছে পঙ্গু। আহত শিশুদের কোন প্রকার চিকিৎসা সেবা টুকুও দেয়া হয় না বলে প্রতিবেদনে জানা যায়। তবুও এসকল মাইকা খনিতে প্রায় ২২ হাজার শ্রমিক জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করে, যদিও কেউ কেউ বলেন শ্রমিকদের আসল সংখ্যা অনেক বেশি আর এসকল শিশুদের বয়স ৬ থেকে ৭ বছর এর মধ্যে।

তবে এসকল মাইকা খনিতে আসলে কত শ্রমিক কাজ করে সে সম্পর্কে ভারত সরকারের কাছে প্রকৃত কোন তথ্য নেই, ২০১৯ সালে শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা সনাক্ত করতে একটি জরিপ চালু করা হয় কিন্তু সেই জরিপের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

প্রিয় পাঠক আপনি নিশ্চই ভাবছেন মাইকা মাইনিংয়ের জন্য কেন সুধু শিশুদের ব্যাবহার করা হয়। তার কারণ হল মাইকা খনিগুল বেশ ছোট আকৃতীর হয়ে থাকে এসকল খনির প্রবেশমুখ খুব সরু হয়, যার কারণে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ এসকল খনিতে প্রবেশ করতে পারে না কিন্তু শিশুদের শারীরিক আকৃতি বড়দের থেকে ছোট হবার সুফলে শিশুরা খুব সহজেই মাইকা খনিতে প্রবশ করতে পারে।

শিশুদের এ কাজ করার কারণ হিসেবে ঝারখান্ড ও বিহারের অতি দারিদ্রতাকেই দায়ি করা হয়। ঝারখান্ডে দারিদ্রতার শতাংশ হল ৪৩, আর বিহারে প্রায় ৫২%। প্রথমত এই দুটি এলাকার অতি দারিদ্রতা এবং এলাকাদুটিতে নেই কৃষি কাজ ও শিল্প কল কারখানা, মূলত সে কারণেই এসকল এলাকার শিশুরা মাইকা মাইনিংয়ে কাজ করে থাকে দু বেলা খাবারের আশায়। যদিও এসকল শিশুদের প্রতিদিনের মজুরি ৪০ থেকে ৫০ টাকার বেশি হয় না। এখানের বড়রা কয়লা খনিতে কাজ করেন, আর ছোটরা কাজ করে মাইকা খনিতে, যাতে করে পরিবারগুল দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগার করতে পারে। একটু ভাল ভাবে বাচতে পারে। কিন্তে পারে পছন্দের পোশাক। এসকল খনি শ্রমিকদের এত কম পারিশ্রমিকের কারণ হল এসকল খনিগুল অবৈধ, সরকারের অনুমোতি ছারাই স্থানিও প্রভাবশালী ব্যাক্তিগণ এসকল খনি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। যার কারণে এসব খনি শ্রমিকদের মোজুরি এত কম হয়ে থাকে। বর্তমানে মেক আপ শিল্পের মার্কেট ভ্যালু কয়েক বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে আপনারও আছে হাজার হাজার টাকা। প্রিয় পাঠক একটু ভেবে দেখুন তো আপনি যখন পার্লারে বসে নিজেকে সুন্দর করে সাজাতে ব্যাস্ত আছেন ঠিক তখন সামান্য কয়েটি টাকার জন্য জীবনের ঝুকি নিয়ে অসংখ্য শিশু কাজ করে চলেছে আপনার শখের মেক আপের কাচামাল যোগাতে.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *