এবার ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার গতীতে চলবে বৈদ্যুতিক গাড়ী

বাহন বা পরিবহনের ইতিহাস অত্যান্ত বিচিত্র। প্রাচীন কালে বাহন হিসেবে উট, গোড়া, খচ্ছর ব্যাবহার করতেন আমাদের পূর্ব পুরুষগণ। তবে কালের পরিক্রমায় প্রযুক্তির আগ্রতি সাধিত হয়েছে এবং সেই অগ্রগতি আমুল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়েছে আমাদের ব্যাবহুত প্রাচীন পরিবহন ব্যাবস্থাকে। যদিও এখনও পৃথীবির বিভিন্য প্রান্তে বাহন হিসেবে ঘোড়া এবং উট বা ভার বহনে সক্ষম পশু ব্যাবহার করা হচ্ছে। তবে এই পশু ব্যাবহারের পরিমাণ নিতান্তই কম,আধুনিক বিশ্ব এখন পশু কেন্দ্রিক বাহন ব্যাবস্থা থেকে বের হয়ে মোটর চালিত পরিবহন ব্যাবস্থায় প্রবেশ করেছে। বর্তমানে পরিবহন হিসেবে আমরা বাস,ট্রাক,ট্রেন,উরজাহাজ ইত্যাদি ব্যাবহার করে থাকি। তবে এ সকল যান বাহনে জালানি হিসেবে জিবাশ্ব তেল ব্যাবহার করা হয়। জিবাশ্ব তেল ব্যাবহারের ফলে সে সকল যানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত কালো ধোয়া পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করছে, জিবাশ্ব জালানির অতি ব্যাবহারের ফলে পৃথীবির গড় তাপমাত্র ক্রমাগত ঝুকিপূর্ণ ভাবে বেড়ে যাচ্ছে যা মানব সভ্যতার জন্য একটি বড় হুমকি। শুধু মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকর নয় অতি জিবাশ্ব ব্যাবহার, বরং পুরো প্রাণী জগতের জন্যই হুমকি জালানি তেল ব্যাবহরের ফলে অতি কার্বণ নিশ্বারন।

এই সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীরা দির্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে নবায়ন যোগ্য জালানি উদ্ভাবনের লক্ষে। এর ই ধারাবাহীকতায় নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লাইটইয়ার ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার গতীতে চলতে সক্ষম বৈদ্যতিক গাড়ী বাজারে আনতে যাচ্ছে। বর্তমানে লাইটইয়ার সপ্তাহে ১ টি গাড়ী তৈরী করছে তবে আগামী বছর থেকে উৎপাদনের গতি বারানো হবে। এই দ্রæত গতি সম্পন্য বৈদ্যুতিক গাড়ী প্রযুক্তি পৃথীবির গড় তাপমাত্রা বেড়ে চলার গতীতে লাগাম টানবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। কারণ এই গাড়ী চলতে কোন প্রকার তেল বা জ্বালানির প্রয়জন হবে না। এই গাড়ী জ্বালানি হিসেবে ব্যাবহার করবে বিদ্যুত, বিদ্যুত ব্যাবহার করে চলার কারণে এই গাড়ী থেকে কোন প্রকার কালো ধোয়া নির্গত হবে না সুতরাং কার্বন নিশ্বারণের পরিমাণ স্বাভাবিক ভাবেই কমে যাবে এতে করে পৃথীবির পরিবেশের জন্য লাইটইয়ারের এই গাড়ী আর্শিবাদ হিসেবে দেখছেন পরিবহন এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞগণ। আমাদের উচিত হবে পৃথীবি এবং পরিবেশের কথা বিবেচনা করে জিবাশ্ব নির্ভর যান ব্যাবহার সিমীত করে বৈদ্যুত চালিত গাড়ী ব্যাবহার বৃদ্ধি করা। তবে লাইটইয়ারের এই বৈদ্যুতিক গাড়ীর কত দাম হবে সে সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়নি লাইটইয়ার, এই বৈদ্যুতিক গাড়ীর প্রভাব শুধু মাত্র পরিবেশেই সিমাবদ্ধ থাকবে না এই গাড়ী বিশ্ব রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ হল এই বৈদ্যুতিক গাড়ী বাজারে প্রচলিত হয়ে গেলে তেলের চাহিদা এবং তেলের ব্যাবহার কমে যাবে ফলে তেল বিক্রি কেন্দ্রিক অর্থনীতির দেশগুলতে বড় অর্থনীতিক ধাক্কা আসবে, এবং বৈশিক ভ‚ রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধিত হবে। এই প্রযুক্তি আগামী বিশ্বের নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে।
২০০৩ সালে মার্কিন যুর্ক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণ ছিল ইরাকের তেলের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার জন্য এমন আভিযোগ আছে মার্কিন যুর্ক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। যদিও সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের ত্বতকালীন সরকারের হাতে ব্যাপক পরিমাণে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদ আছে বলে অভিযোগ আপর করেছিল কিন্তু যুর্ক্তরাষ্ট্রের ইরাকে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার পর তেমন কোন গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সন্ধান যুর্ক্তরাষ্ট্র দিতে পারেনি সে জন্য অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল সমালচনার সম্মুখিন হতে হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরপিত অভিযোগটি যদি সত্যি হয় তাহলে যে তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যায় করে ইরাকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল সেই তেল আর কিছু বছর পর মুল্যহীন হয়ে যাবে বলে আমার ব্যাক্তিগত ধারণা।শুুধু ইরাক যুদ্ধই তো নয় বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ বিগ্রহ চলমান আছে এবং তেল আবিস্কার হবার পরে যে সকল যুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছে সে সকল যুদ্ধের বেশির ভাগ ই সংঘটিত হয়েছে মধ্যপ্রচ্যের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বলেই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *