এবার সড়ক দুর্ঘটনা সনাক্ত করবে আইফোনের স্যাটালাইট ভিত্তিক এসওএস সেবা

আনুনিক মটর গাড়ী যেমন বদলে দিয়েছে আমাদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমাদের হাতে এনে দিয়েছে দুর্দান্ত গতি। উচ্চগতি সম্পন্য গাড়ীতে চড়ে অল্প সময়ে অনেকটা দুরত্ব পারি দেয়া সম্ভব। তবে এই অতি গতি মাঝে মাঝে আমাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে ওঠে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ি শুধুমাত্র বাংলাদেশেই বিগত সাড়ে তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ হাজার ১২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, এছাড়াও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অসংখ্য মানুষ। পৃতীবিজুড়ে সড়ক যাত্রা নিরাপদ করার লক্ষ্যে বিভিন্য কম্পানি বিভিন্য নিরাপত্তামূলক গ্যাজেট বাজারে এনেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে এ্যাপলের স্যাটেলাইট ভিত্তিক এসওএস সেবা। কোন আইফোন ১৪ সিরিজের ফোনগুলতে এই স্যাটেলাইট ভিত্তিক এসওএস সেবা যুক্ত করা হয়েছে। এই মডেলের আইফোন ব্যাবহারকারী যদি গাড়ী দুর্ঘটনায় শিকার হয় তাহলে তার পকেটে বা হাতে থাকা আইফোনের ক্রাস সনাক্তকরণ সেন্সার দুর্ঘটনা শনাক্ত করতে পারে এবং স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে নিকটস্থ উদ্ধানকারী কর্তিপক্ষের কাছে বার্তা পাঠাতে সক্ষম। দুর্ঘটনার শিকার ব্যাক্তির ফোনে যদি ইন্টারনেট কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্ক নাও থাকে তবুও এই ফোন স্যাটালাইট সংযোগের মাধ্যমে এসওএস বার্তা পাঠাতে পারে আইফোন ১৪ সিরিজের ফোনগুল। এই এসওএস সেবা ব্যাবহার করতে ব্যাবহারকারীদের কোন প্রকার টাকা দিতে হয় না ব্যাবহারকারীগণ সম্পুর্ণ বিনামুল্যেই এই সেবা ব্যাবহার করতে পারেন। তবে সারা পৃথীবিতে এখনও এই এসওএস সেবা কার্যকর নেই শুধূমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ কয়েকটি দেশের কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় এই এসওএস সেবা চালু আছে।

এ সেবার সুফল ইতিমধ্যেই পাওয়া শুরু হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক বাসিন্দা গাড়ী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গভীর খাদে পরে যায় তারপর সেই ব্যাক্তির পকেটে থাকা আইফোন দুর্ঘটনা সনাক্ত করে নিকটস্থ উদ্ধারকারী কর্তিপক্ষের কাছে এসওএস পাঠায় তাপর হেলিকাপ্টার এস গাড়ীর দুজন আরহীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ফলে সে দুজন দুর্ঘটনা কবলিত ব্যাক্তি প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। প্রযুক্তি যেমন আমাদের বিপদের সম্মুখিন করে আবার সেই প্রযুক্তিই ত্রাণকর্তা হয়ে আমাদের পাশে দাড়ায়, এই স্যাটেলাইট ভিত্তিক এসওএস সেবা তার জলন্ত উদাহারণ। এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য আশির্বাদ হতে পারে যদিও বাংলাদেশে এখনও এ্যাপেল এই এসওএস সেবা চালু করেনি তবে কবে নাগাদ এ্যাপলের এসওএস বো পাওয়া যাবে তা এখনও জানা যায়নি। বাংলাদেশে যদি এই সেবা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয় তাহলে আমাদের যে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করেন সেই তালিকা ছোট হয়ে আসবে, রক্ষা পাবে অনেক মানুষের প্রাণ, রক্ষা পাবে অনেক পরিবার, এতিম হতে হবে না পিতা হারানো ছোট ছোট শিশুদের, স্বামী হারা হতে হবে না গ্রাম কিংবা শহরের গৃহবধুদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *